শনিবার, ২০ মার্চ, ২০১০

বিজ্ঞান কারে কয়!

তথাকথিত ধর্মীয় বিজ্ঞানের প্রচারকরা, বিজ্ঞান সম্পর্কে ক্রমাগত ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তি তৈরীর চেষ্টা সর্বত্র চালিয়ে যান এবং অন্তর্জালেও এটা সমানভাবে বর্তমান। এঁদের মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের বিবেচনা-বুদ্ধিকে গুলিয়ে দিয়ে, ধর্মীয় মৌলবাদের কারাগারে তাকে বন্দি করা। এই ইউটিউব ভিডিওটিতে এদের মিথ্যা প্রচারের উপযুক্ত জবাব আছে বলে মনে হয়।

ক্রিয়েশনিজম ও ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইনের স্বরূপ

আশা করি ভিডিওটা দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে, ক্রিয়েশনিজম ও ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন তত্ত্বের উদ্দেশ্য কি।

জীবনের উৎস সন্ধানে

১৪ই মার্চ - আইনস্টাইন দিবস

১৪ই মার্চ, মহাবিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের জন্মদিবস। ১৮৭৯ সালে আজকের দিনে জার্মানির উল্ম-এ এক ইহুদি পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর আবিষ্কৃত আপেক্ষিকতাবাদের তত্ত্ব এবং ভর-শক্তি সমতুল্যতা সমীকরণ, তাঁর পরিচয়ের সাথে প্রায় একাত্ম হয়ে গেছে। তাঁর সারা জীবনব্যাপী, অসংখ্য গবেষণার মধ্যে, বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্যগুলি হল,-
১) সাধারণ আপেক্ষিকতা
২) বিশেষ আপেক্ষিকতা
৩) ব্রাউনীয় গতি
৪) আলোক তড়িৎ ক্রিয়া
৫) তরঙ্গ-কণা দ্বৈততা
৬) ভর-শক্তি সমতুল্যতা
৭) আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণ
৮) একীভূত ক্ষেত্র তত্ত্ব
৯) বসু-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান
১০) ইপিআর প্যারাডক্স

সবই ব্যাদে আছে ! - ড. মেঘনাদ সাহা

খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহা একবার মাসিক ভারতবর্ষ পত্রিকায়, 'একটি নতুন জীবন দর্শন' (১৩ নভেম্বর, ১৯৩৮) শিরোনামের একটি প্রবন্ধে, কটাক্ষমূলক একটি উক্তি করেছিলেন। উক্তিটি হল -'সবই ব্যাদে আছ'! এই উক্তিটি নিয়ে অনিলবরণ রায় নামের এক হিন্দুত্ববাদী ব্যাপক জলঘোলা করা শুরু করলে, এর ব্যাখ্যায় মেঘনাদ সাহা যা বলেন, তা এখানে তুলে ধরছি।

"... প্রায় আঠারো বৎসর পূর্বেকার কথা। আমি তখন প্রথম বিলাত হইতে ফিরিয়াছি। বৈজ্ঞানিক জগতে তখন আমার সামান্য কিছু সুনাম হইয়াছে। ঢাকা শহরবাসী লব্ধপ্রতিষ্ঠিত এক উকিল আমি কি বৈজ্ঞানিক কাজ করিয়াছি তাহা জানিবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আমি উৎসাহভরে তাহাকে আমার প্রথম জীবনের তদানীন্তন গবেষণা সম্বন্ধে সবিশেষ বর্ণনা দেই। তিনি দু-এক মিনিট পরপরই বলিয়া উঠিতে লাগিলেন, "এ আর নতুন কি হইল, এ সমস্তই ব্যাদ-এ আছে"। আমি দু একবার মৃদু আপত্তি করিবার পর বলিলাম, 'মহাশয় এ সব তত্ত্ব বেদের কোন অংশে আছে তাহা অনুগ্রহ পূর্বক দেখাইয়া দিবেন কি?' তিনি বলিলেন, "আমি তো ব্যাদ পড়ি নাই, কিন্তু আমার বিশ্বাস তোমরা নূতন বিজ্ঞানে যাহা করিয়াছ বলিয়া দাবি কর, তাহা সমস্তই 'ব্যাদে' আছে"।

বলা বাহুল্য যে, বিগত কুড়ি বৎসর ধরিয়া বেদ, উপনিষদ, পুরাণ ইত্যাদি সমস্ত হিন্দুশাস্ত্র এবং হিন্দু জ্যোতিষ ও অপরাপর বিজ্ঞান সম্বন্ধীয় প্রাচীন গ্রন্থাদি তন্ন তন্ন করিয়া খুঁজিয়া আমি কোথাও আবিষ্কার করিতে সক্ষম হই নাই যে, এই সমস্ত প্রাচীন গ্রন্থে বর্তমান বিজ্ঞানের মূলতত্ত্ব নিহিত আছে।

অনেকে মনে করেন, ভাস্করাচর্য একাদশ শতাব্দীতে অতিস্পষ্টভাবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন, সুতরাং তিনি নিউটনের সমতুল্য। অর্থাৎ নিউটন আর নতুন কি করিয়াছে? কিন্তু এই সমস্ত "অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী" শ্রেণীর তার্কিকগন ভুলিয়া যান যে, ভাস্করাচর্য কোথাও পৃথিবী ও অপরাপর গ্রহ সূর্যের চারিদিকে বৃত্তাভাস (elliptical) পথে ভ্রমণ করিতেছে - একথা বলেন নাই। তিনি কোথাও প্রমাণ করেন নাই যে, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ও গতিবিদ্যার নিয়ম প্রয়োগ করিলে পৃথিবীর এবং অপরাপর গ্রহের পরিভ্রমণপথ নিরূপণ করা যায়। সুতরাং ভাস্করাচার্য বা কোন হিন্দু, গ্রীক বা আরবী পণ্ডিত কেপলার, গ্যালিলিও বা নিউটনের বহু পূর্বেই মাধ্যাকর্ষণতত্ত্ব আবিস্কার করিয়াছেন, এইরূপ উক্তি করা পাগলের প্রলাপ বই কিছু নয়। ..."

যারা প্রতিনিয়ত বেদ-বাইবেল-কোরান প্রভৃতি ধর্মীয় পুস্তকের নানা কোনাকাঞ্চিতে আধুনিক বিজ্ঞানের সন্ধান করেন, তাদের আমি ড. মেঘনাদ সাহার হিন্দু ধর্মে-বেদ-বিজ্ঞান সম্পর্কিত চিত্তাকর্ষক বাদানুবাদটি সংগ্রহ করে পড়তে অনুরোধ করি। লেখাটি এখনো যথেষ্ট আধুনিক ও প্রাসঙ্গিক।

আপ্পাচান ও তাঁর নারকেল গাছে ওঠার যন্ত্র

ভারতের কেরালা রাজ্যনিবাসি এম জে জোসেফ আপ্পাচান তৈরী করেছেন এই আশ্চর্য যন্ত্র। এই সহজ এবং নিরাপদ যন্ত্রটির মধ্যে রয়েছে, পা রাখার জন্য ইস্পাতের তৈরী দুটি প্যাডেল, যা জোড়া রয়েছে ধাতব তারের মাধ্যমে। এই যন্ত্রের সাহায্যে ৪০ মিটার উঁচু নারকেল গাছে, যে কেউ উঠে পড়তে পারেন মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে। স্বাভাবিক ভাবে উঠতে এর দ্বিগুন সময় লাগে। এই যন্ত্রের সাহায্যে গাছে উঠে আপনি পাড়তে পারেন নারকেল, স্প্রে করতে পারেন ওষুধ ও কীটনাশক, অথবা করতে পারেন পাতা ছাড়ানোর কাজ। কেরালা রাজ্যে প্রথাগতভাবে নারকেলগাছে ওঠার কাজ করতেন যে 'থান্ডান'-রা, তাঁরা অনেকেই অন্যান্য জীবিকায় বেশী উপার্জনের সুযোগ পেয়ে, এই বিপজ্জনক জীবিকাটি ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে নারকেল পাড়ার লোক পাওয়া দায় হয়েছে। মজুরিও বেড়ে গেছে প্রায় দশগুণ। এমতাবস্থায় আপ্পাচানের যন্ত্রটি নারকেল চাষিদের কাছে পরিত্রাতা রূপে হাজির হয়েছে। আপ্পাচান অবশ্য এই আবিষ্কারের মূল কৃতিত্ব, তাঁর বাবাকে দিয়েছেন। তিনি বলেন "গোটা কৃতিত্ব আমার বাবার। মূল যন্ত্রটি ওঁরই তৈরী। আমি শুধু কিছু প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করেছি মাত্র।" আপ্পাচানের প্রথাগত শিক্ষা খুবই অল্প হলেও, মাথায় ভরা প্রযুক্তির পোকা। খুব অল্প বয়সে নিয়ে নেন মেটাল স্মিথের একটি ট্রেনিং। এখানেই তিনি শেখেন লোহা ও ইস্পাত গলাতে ও বাঁকাতে। ২০০৬ সালে গড়ে তোলেন নিজের কর্মশালা। বর্তমানে একটি যন্ত্রের দাম পড়ে লোহার তৈরী হলে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫০০ টাকা। ইস্পাতের তৈরী যন্ত্রের দাম কিছু বেশি পড়ে। এই যন্ত্রটি বাজারে বিপণন করছে 'সেন্ট্রাল কোকোনাট বোর্ড' এবং 'দ্য কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ'।

শয়তান অবশ্যই কারারুদ্ধ এবং তা এই কক্ষেই

উপমহাদেশের বিখ্যাত উর্দু কবি মির্জা গালিব (পুরো নাম মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব), ছিলেন জুয়া খেলায় প্রবল আসক্ত। এ বিষয়ে তাঁর কোন রাখঢাক ছিল না। কোন এক রমজান মাসের দিনে, গালিবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু কবি ও ইসলামী আইনের বিশেষজ্ঞ মুফতি সদরুদ্দিন আজুর্দা, গালিবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দেখেন, গালিব ঘরে বসে জুয়া খেলছেন। গালিবকে এ অবস্থায় দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে মন্তব্য করেন যে, তাঁর সন্দেহ হচ্ছে, পবিত্র গ্রন্থাদিতে যে বলা হয়েছে, রমজান মাসে শয়তান কারারুদ্ধ থাকে, তা সত্য কিনা। উত্তরে গালিব তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বললেন, "গ্রন্থের বক্তব্য প্রকৃতই যথার্থ; কেননা শয়তান অবশ্যই কারারুদ্ধ এবং তা এই কক্ষেই।"

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ